উৎসবের মরশুমে রেলযাত্রীদের জন্য বড় উপহার ভারতীয় রেলের। দেশের দ্বিতীয় বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালু হতে চলেছে বারাণসী-নয়াদিল্লি রুটে। ৩১ অক্টোবর, শনিবার এই ট্রেনের উদ্বোধনী যাত্রার কথা রয়েছে। তবে নিয়মিত বাণিজ্যিক পরিষেবা কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনও আলাদা করে ঘোষণা করা হয়নি। ১৬ কামরার এই আধুনিক ট্রেনে থাকছে থ্রি-টিয়ার, টু-টিয়ার ও ফার্স্ট এসি-র ব্যবস্থা।
দীপাবলি ও ছটপুজোর আগে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বহু মানুষ। এই সময় উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে দিল্লি এবং আশপাশের শহরগুলির মধ্যে যাত্রীচাপও বেড়ে যায়। সেই কথা মাথায় রেখে বারাণসী-নয়াদিল্লি রুটে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় রেল। ৩১ অক্টোবর এই ট্রেনের উদ্বোধনী যাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উপস্থিতিতে ট্রেনটির সূচনা হওয়ার কথা।
এই পরিষেবা চালু হলে উত্তরপ্রদেশ পেতে চলেছে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। আর দেশের দ্বিতীয় স্লিপার বন্দে ভারত হিসেবে এটি যুক্ত হবে রেল নেটওয়ার্কে। এর আগে হাওড়া-কামাখ্যা রুটে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার পরিষেবা চালু হয়েছে।

৩১ অক্টোবর উদ্বোধনী যাত্রা, নিয়মিত পরিষেবা কবে?
রেলওয়ে বোর্ডের অনুমোদনের পর বারাণসী-নয়াদিল্লি বন্দে ভারত স্লিপারের উদ্বোধনী যাত্রার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ অক্টোবর। তবে উদ্বোধনী বিশেষ ট্রেনের যাত্রা এবং নিয়মিত বাণিজ্যিক পরিষেবা এক বিষয় নয়। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, নিয়মিত পরিষেবা শুরুর তারিখ পরে আলাদা করে ঘোষণা করা হবে।
অর্থাৎ দীপাবলির আগেই ট্রেনটির উদ্বোধন হলেও সাধারণ যাত্রীরা কবে থেকে নিয়মিত টিকিট কেটে এই ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবেন, তা জানতে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।
বারাণসী থেকে দিল্লি যেতে সময় লাগবে সাড়ে ৯ ঘণ্টার কাছাকাছি
রেলওয়ে বোর্ডের অনুমোদিত সূচি অনুযায়ী, নিয়মিত পরিষেবা চালু হলে বারাণসী থেকে নয়াদিল্লি যাওয়ার ট্রেনটির নম্বর হবে ২৭৪২১। বারাণসী থেকে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন ভোরে নয়াদিল্লি পৌঁছনোর কথা। যাত্রাপথে ট্রেনটি প্রায় ৭৬০ কিলোমিটার অতিক্রম করবে। আনুমানিক যাত্রাসময় ৯ ঘণ্টা ২০ মিনিট থেকে সাড়ে ৯ ঘণ্টা।
ফেরার পথে ২৭৪২২ নম্বর ট্রেনটি নয়াদিল্লি থেকে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ছাড়বে এবং পরদিন সকালে বারাণসী পৌঁছবে। দুই দিকেই সপ্তাহে ছয় দিন পরিষেবা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বারাণসী থেকে শুক্রবার এবং দিল্লি থেকে শনিবার ট্রেনটি চলবে না বলে অনুমোদিত সূচিতে উল্লেখ রয়েছে।
কোন কোন স্টেশনে দাঁড়াবে বন্দে ভারত স্লিপার?
বারাণসী-নয়াদিল্লি রুটে ট্রেনটির যাত্রাপথে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্টেশনে স্টপেজ রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী, ট্রেনটি প্রয়াগরাজ, কানপুর সেন্ট্রাল, আলিগড় এবং গাজিয়াবাদে থামবে।
এর ফলে শুধু বারাণসী ও দিল্লির যাত্রীরাই নন, প্রয়াগরাজ, কানপুর ও আলিগড়ের যাত্রীরাও নতুন এই পরিষেবার সুবিধা পেতে পারেন। বিশেষ করে রাতের ট্রেনে যাতায়াত করতে অভ্যস্ত যাত্রীদের জন্য এটি একটি অতিরিক্ত বিকল্প হয়ে উঠবে।
১৬ কামরার ট্রেনে থাকছে ৮২৩টি বার্থ
নতুন বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে মোট ১৬টি কামরা থাকবে। যাত্রীদের জন্য থাকছে তিন ধরনের এসি শ্রেণি—থ্রি-টিয়ার, টু-টিয়ার এবং ফার্স্ট এসি। মোট ৮২৩ জন যাত্রী এই ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবেন।
কামরার বিন্যাস অনুযায়ী, ১১টি থ্রি-টিয়ার এসি কোচে ৬১১টি বার্থ, চারটি টু-টিয়ার এসি কোচে ১৮৮টি বার্থ এবং একটি ফার্স্ট এসি কোচে ২৪টি বার্থ থাকবে। অর্থাৎ বিভিন্ন বাজেট ও প্রয়োজনের যাত্রীদের জন্য আলাদা শ্রেণির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যাত্রীদের জন্য কী কী আধুনিক সুবিধা থাকছে?
বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি তৈরি করেছে BEML। চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি (ICF)-এর প্রযুক্তিগত সহায়তায় তৈরি এই ট্রেনে যাত্রীদের রাতের সফর আরও আরামদায়ক করার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।
কামরায় থাকবে উন্নত মানের বার্থ, চার্জিং পয়েন্ট, আধুনিক শৌচাগার, লাগেজ রাখার নির্দিষ্ট জায়গা এবং সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা। পাশাপাশি ট্রেনটিতে রয়েছে উন্নত সাসপেনশন, শব্দ কমানোর প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় দরজা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের জন্য টক-ব্যাক ব্যবস্থা। নিরাপত্তার জন্য থাকছে ‘কবচ’ প্রযুক্তিও।
ট্রেনটির নকশাগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার হলেও অনুমোদিত পরিচালনগত গতি ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। তবে বাস্তবে কত গতিতে ট্রেনটি চলবে, তা রুটের পরিকাঠামো ও রেললাইনের অবস্থার উপর নির্ভর করবে।
দীপাবলি ও ছটের আগে যাত্রীদের জন্য কতটা সুবিধা?
দীপাবলি এবং ছটপুজোর সময় উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বহু মানুষ কাজের সূত্রে দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন শহর থেকে বাড়ি ফেরেন। ফলে এই সময় দীর্ঘপথের ট্রেনে টিকিটের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। বারাণসী-দিল্লি বন্দে ভারত স্লিপার চালু হলে রাতের সফরে আরও একটি আধুনিক বিকল্প পাবেন যাত্রীরা।
বিশেষ করে যাঁরা দিনের কাজ নষ্ট না করে রাতে যাত্রা করতে চান, তাঁদের কাছে এই ট্রেন আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে টিকিটের ভাড়া, বুকিং শুরুর দিন এবং নিয়মিত পরিষেবার চূড়ান্ত সূচি জানতে রেলের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করতে হবে।
সব মিলিয়ে, বারাণসী-নয়াদিল্লি বন্দে ভারত স্লিপার উত্তর ভারতের রেল যোগাযোগে নতুন সংযোজন হতে চলেছে। ৩১ অক্টোবর উদ্বোধনী যাত্রার পর কবে থেকে সাধারণ যাত্রীদের জন্য নিয়মিত পরিষেবা শুরু হয়, এখন সেদিকেই নজর।