কলকাতার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভিতরে ক্যান্টিন বিভাগের শৌচাগার থেকে উদ্ধার হল এক কর্মীর মৃতদেহ। সোমবার সকালে এই ঘটনাকে ঘিরে বিধানসভা চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৃতের নাম উমেশচন্দ্র দাস। দীর্ঘদিন ধরে বিধানসভার ক্যান্টিনে কাজ করতেন তিনি। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বিধানসভার ভিতরেই উদ্ধার মৃতদেহ
সোমবার সকালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভিতরে ক্যান্টিন বিভাগের শৌচাগার থেকে এক কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত কর্মীর নাম উমেশচন্দ্র দাস। বয়স ৪৬ বছর। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে বিধানসভার ক্যান্টিনে কর্মরত ছিলেন তিনি। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে বিধানসভার ক্যান্টিন বিভাগের শৌচাগারের ভিতরে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ঘটনাটি সামনে আসতেই বিধানসভা চত্বরে উদ্বেগ তৈরি হয়। যেখানে রাজ্যের বিধায়ক, মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়মিত যাতায়াত, সেই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের ভিতরে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

দীর্ঘক্ষণ সাড়া না মেলায় সন্দেহ
প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, সোমবার সকাল আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিট নাগাদ শৌচাগারের ভিতরে উমেশচন্দ্র দাসকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁর কোনও সাড়া না মেলায় সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর শৌচাগারের দরজা খুলে তাঁকে উদ্ধার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দরজা খুলতে সমস্যা হওয়ায় সেটি ভেঙে ভিতরে ঢোকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে দরজা ভাঙতে হয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। উদ্ধার করার পর দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো গেল না
অচেতন অবস্থায় উমেশচন্দ্র দাসকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরও কেন তাঁর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হল না, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। তবে চিকিৎসকদের তরফে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনও কোনও চূড়ান্ত তথ্য সামনে আসেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এখনও পর্যন্ত উমেশচন্দ্র দাসের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর শরীরে বাইরে থেকে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শুধু বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন না থাকার ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন কি না, কোনও শারীরিক সমস্যার কারণে মৃত্যু হয়েছে কি না, কিংবা অন্য কোনও পরিস্থিতি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এখনই মৃত্যুকে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়া, আত্মহত্যা বা খুনের ঘটনা বলে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আপাতত কোনও নির্দিষ্ট কারণ সামনে আসেনি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্তে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ
ঘটনার খবর পেয়ে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে গিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের ভিতরে এই ঘটনা ঘটায় তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। শৌচাগারের ভিতরে ঠিক কী ঘটেছিল, উমেশচন্দ্র দাস কতক্ষণ সেখানে ছিলেন এবং তাঁকে উদ্ধার করার আগে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। বিধানসভার ভিতরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ফুটেজে কী পাওয়া গিয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
দীর্ঘদিনের কর্মীকে ঘিরে শোক ও উদ্বেগ
উমেশচন্দ্র দাস প্রায় ১৫ বছর ধরে বিধানসভার ক্যান্টিনে কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিনের কর্মীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট মহলে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর সহকর্মীদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা বিধানসভার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও কর্মীদের সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সরকারি ভবনের ভিতরে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা, দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তার পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও নির্দিষ্ট গাফিলতি ছিল বলে দাবি করা ঠিক হবে না। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সামনে এলে এই প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা
উমেশচন্দ্র দাসের মৃত্যুর ঘটনায় আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। সেই রিপোর্ট থেকেই মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। পাশাপাশি পুলিশের তদন্তে উঠে আসা তথ্যও ঘটনার রহস্য উন্মোচনে সাহায্য করবে।
বিধানসভার ভিতরে ক্যান্টিন কর্মীর এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনও অনুমানকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উমেশচন্দ্র দাসের মৃত্যু রহস্যের মধ্যে রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তের পরই জানা যেতে পারে, ঠিক কী কারণে প্রাণ হারালেন বিধানসভার দীর্ঘদিনের এই কর্মী।