কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ ৩ শতাংশ বৃদ্ধির দু’দিনের মধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর ঘোষণা করল মধ্যপ্রদেশ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব জানিয়েছেন, রাজ্যের কর্মী ও আধিকারিকদের মহার্ঘ ভাতা আরও ২ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এই বৃদ্ধি। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসের বকেয়া টাকা দেওয়া হবে তিনটি সমান মাসিক কিস্তিতে। পেনশনভোগীদের জন্যও ২ শতাংশ মহার্ঘ ত্রাণ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে।
দীপাবলির আগে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড় ঘোষণা মধ্যপ্রদেশ সরকারের। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানান, রাজ্য সরকারি কর্মী ও আধিকারিকদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ ২ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় থাকা কর্মীদের ডিএ ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ শতাংশ হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ডিএ বৃদ্ধির পরেই মধ্যপ্রদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্ত সামনে এল। তবে এই ঘোষণাটি মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হবে বর্ধিত ডিএ
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য ২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৯ মাসের বকেয়া পাওনা তৈরি হয়েছে কর্মীদের। তবে সেই টাকা একসঙ্গে দেওয়া হবে না। তিনটি সমান মাসিক কিস্তিতে বকেয়া মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এই সিদ্ধান্তের ফলে কর্মীরা একদিকে যেমন প্রতি মাসে বেশি ডিএ পাবেন, তেমনই আগের মাসগুলির বকেয়া পাওনাও ধাপে ধাপে হাতে আসবে। সরকারের এই ঘোষণায় দীপাবলির আগে মধ্যপ্রদেশের সরকারি কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে।
নভেম্বরের বেতন থেকেই মিলবে বাড়তি টাকা
বর্ধিত ডিএ-র টাকা কবে থেকে হাতে পাওয়া যাবে, তা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গেই নতুন হারে ডিএ দেওয়া হবে। যেহেতু অক্টোবরের বেতন নভেম্বর মাসে অ্যাকাউন্টে ঢোকার কথা, তাই নভেম্বর থেকেই কর্মীরা বর্ধিত ডিএ-র নগদ সুবিধা পেতে শুরু করবেন।
অন্যদিকে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসের বকেয়া টাকা তিনটি সমান মাসিক কিস্তিতে দেওয়া হবে। অর্থাৎ নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বকেয়া মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে বর্ধিত ডিএ-র পাশাপাশি কয়েক মাস ধরে বকেয়া পাওনাও কর্মীদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে।

পেনশনভোগীদের জন্যও ২ শতাংশ মহার্ঘ ত্রাণ বৃদ্ধি
শুধু কর্মরত সরকারি কর্মচারীরাই নন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্যও সুখবর রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব জানিয়েছেন, পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ত্রাণ বা ডিয়ারনেস রিলিফ (DR) ২ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। তবে কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধির কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং পেনশনভোগীদের ডিআর বৃদ্ধির তারিখ এক নয়।
কর্মীদের ক্ষেত্রে নতুন ডিএ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও পেনশনভোগীদের বর্ধিত ডিআর কার্যকর হবে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে। অর্থাৎ পেনশনভোগীরা জুলাই মাস থেকে এই অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে এই সিদ্ধান্ত কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
ডিএ বৃদ্ধির পরেই মধ্যপ্রদেশের ঘোষণা
উল্লেখযোগ্য বিষয়, ২৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের ডিএ এবং ডিআর ৩ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেয়। এর ফলে কেন্দ্রীয় কর্মীদের ডিএ ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৩ শতাংশ হয়েছে।
কেন্দ্রের এই ঘোষণার দু’দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রদেশ সরকার ২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা জানাল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রদেশের সরকারি কর্মীদের ডিএ দাঁড়াল ৬০ শতাংশে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে এখনও ৩ শতাংশের ব্যবধান থাকছে।
কতটা বাড়বে মাসিক বেতন?
ডিএ মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে হিসাব করা হয়। ফলে কর্মীদের বেসিক পে যত বেশি, ২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধিতে তাঁদের অতিরিক্ত প্রাপ্তির পরিমাণও তত বেশি হবে।
উদাহরণ হিসেবে, কোনও কর্মীর মূল বেতন যদি ৩০ হাজার টাকা হয়, তাহলে ২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধিতে তাঁর মাসিক মহার্ঘ ভাতা বাড়বে ৬০০ টাকা। একইভাবে ৪০ হাজার টাকা মূল বেতন হলে অতিরিক্ত ডিএ হবে মাসে ৮০০ টাকা। তবে প্রকৃত প্রাপ্তির পরিমাণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বেতন কাঠামো এবং প্রযোজ্য সরকারি নিয়মের উপর।
সরকারি কর্মীদের জন্য উৎসবের মরশুমে স্বস্তি
দীপাবলির আগে মধ্যপ্রদেশ সরকারের এই ঘোষণা কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য আর্থিক স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে বর্ধিত ডিএ-র সুবিধা অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে পাওয়ার সিদ্ধান্ত কর্মীদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ। পাশাপাশি তিন কিস্তিতে বকেয়া মেটানোর পরিকল্পনাও জানানো হয়েছে।
এখন নজর থাকবে অর্থ দফতরের বিস্তারিত নির্দেশিকা এবং কিস্তি অনুযায়ী বকেয়া প্রদানের প্রক্রিয়ার দিকে। কেন্দ্রের ডিএ বৃদ্ধির পর মধ্যপ্রদেশের এই সিদ্ধান্তে অন্য রাজ্যগুলিও কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়ে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেও নজর থাকবে।