২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দাবি, ২০২৪ সালে যে ব্যবধানে জিতেছিলেন অভিষেক, তার থেকেও অন্তত একটি ভোট বেশি ব্যবধানে তাঁকে হারাবেন। পাল্টা অভিষেকের জবাব, দল সুযোগ দিলে ফের ডায়মন্ড হারবার থেকেই লড়বেন তিনি।
২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এখনও প্রায় আড়াই বছর দূরে। কিন্তু তার আগেই ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গেল রাজ্যে। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, আগামী লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক ওই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হলে তাঁকে আগের জয়ের ব্যবধানের থেকেও বেশি ভোটে হারানো হবে।
“২০২৯-এ ডায়মন্ড হারবারে লড়ুন”, প্রকাশ্য সভা থেকে চ্যালেঞ্জ
বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়া ময়দানের সভায় অভিষেককে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার থেকে প্রার্থী হতে। তাঁর কথায়, ২০২৪ সালে যে ব্যবধানে অভিষেক জিতেছিলেন, তার থেকেও অন্তত একটি ভোট বেশি ব্যবধানে তাঁকে হারাবেন তিনি। এমনকী সিপিএমের ভোট অভিষেকের দিকে গেলেও তাঁকে রক্ষা করা যাবে না বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর বক্তব্যে শুধু পরাজয়ের চ্যালেঞ্জই ছিল না, অভিষেকের জামানত বাজেয়াপ্ত করার কথাও বলেন তিনি। অর্থাৎ আগামী লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক লড়াই নিয়ে আগাম অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী।

২০২৪ সালে কত ভোটে জিতেছিলেন অভিষেক?
ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র তৃণমূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘাঁটি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের ফলাফল অনুযায়ী, তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৯৩০ ভোট।
এই বিপুল ব্যবধানের প্রসঙ্গ তুলেই শুভেন্দু জানিয়েছেন, ২০২৯ সালে অভিষেক ফের ওই কেন্দ্র থেকে লড়লে তাঁকে তার থেকেও বেশি ব্যবধানে পরাজিত করার লক্ষ্য থাকবে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য শুধু ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জে সীমাবদ্ধ নয়; ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি এবং ২০২৯ সালের নির্বাচনী সমীকরণও আলোচনায় উঠে এসেছে।
পাল্টা জবাব অভিষেকের, “দল সুযোগ দিলে ডায়মন্ড হারবারেই দাঁড়াব”
মুখ্যমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জের পর চুপ থাকেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শুক্রবারই পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্ট করে দেন, দল যদি তাঁকে সুযোগ দেয়, তা হলে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার থেকেই প্রার্থী হতে চান।
অভিষেকের বক্তব্য, তিনি নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ছেড়ে কোথাও পালিয়ে যাননি। ডায়মন্ড হারবারে যাওয়ার পাশাপাশি কাঁথিতেও যাবেন বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, তাঁকে নিয়ে অত চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী ফলাফল নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন তিনি। অভিষেকের এই বক্তব্যে ২০২৯ সালের নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার থেকে ফের লড়ার ইচ্ছা স্পষ্ট হয়েছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন, তা রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে।
পুলিশি মন্তব্য ঘিরেও চলছে শুভেন্দু-অভিষেক তরজা
শুভেন্দু-অভিষেকের এই বাকযুদ্ধের পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক পুলিশি ভূমিকা নিয়ে বিতর্কও। বৃহস্পতিবার পুলিশকে উদ্দেশ করে অভিষেক বলেছিলেন, তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি করতে হবে। সেই মন্তব্যের পর শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু পাল্টা কটাক্ষ করেন। অভিষেকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর মন্তব্যে ‘সোডিয়াম-পটাশিয়াম’-এর প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ ছাড়াও সিপিএমের সঙ্গে তৃণমূলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও বারুইপুরের সভা থেকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জাতীয় রাজনীতিতে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধী দলগুলির অবস্থান এবং তৃণমূল-সিপিএমের যোগাযোগের প্রসঙ্গ টেনে আক্রমণ শানান তিনি। ফলে ডায়মন্ড হারবারের নির্বাচনী চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উঠে আসে দুই নেতার বক্তব্যে।
২০২৯-এর লড়াইয়ের আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ
ডায়মন্ড হারবারে অভিষেকের জয় এবং সেই কেন্দ্রকে ঘিরে তৃণমূলের সাংগঠনিক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতির আলোচনায়। অন্যদিকে, শুভেন্দুর এই চ্যালেঞ্জকে ঘিরে আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবে এখনই ২০২৯ সালের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। ভোটের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ, প্রার্থী নির্বাচন, প্রচার এবং ভোটারদের মনোভাব—সবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আপাতত দুই নেতার প্রকাশ্য বক্তব্যে স্পষ্ট, ডায়মন্ড হারবারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াইয়ের উত্তাপ অনেক আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে।