সকালের দুর্বলতা কাটিয়ে শুক্রবার দুপুরে ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় শেয়ার বাজার। ৫০০ পয়েন্টেরও বেশি বেড়ে ৭৪,৬০০-এর ঘর ফিরে পেল বিএসই সেনসেক্স। অন্যদিকে, নিফটি ৫০-ও আবার ২৩,০০০-এর উপরে উঠে এল। বিশ্ব বাজারের অস্থিরতা এবং অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও দেশীয় বাজারে কেনাকাটার জেরে ফিরল বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস। এরই মধ্যে অর্থবর্ষ ২০২৭-এর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৩৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে অর্থ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা।
শুক্রবার দিনের শুরুটা ভারতীয় শেয়ার বাজারের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। আন্তর্জাতিক বাজারের দুর্বল পরিস্থিতি, প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে পতন এবং অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছিল। ফলে সকালের লেনদেনে বাজারের গতি ছিল বেশ মন্থর। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে। বাজারে নতুন করে কেনাকাটার আগ্রহ তৈরি হওয়ায় দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় সেনসেক্স ও নিফটি।
শুক্রবার দুপুরের দিকে বিএসই সেনসেক্স ৫০০ পয়েন্টেরও বেশি বেড়ে ৭৪,৬০০-এর গুরুত্বপূর্ণ স্তর ফিরে পায়। একইভাবে এনএসই নিফটি ৫০-ও ২৩,০০০-এর গণ্ডি পেরিয়ে যায়। সকালের তুলনায় বাজারের এই প্রত্যাবর্তন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
কেন ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় শেয়ার বাজার?
বিশ্ব বাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতীয় শেয়ার বাজারের এই উত্থানের পিছনে দেশীয় বাজারের কেনাকাটার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সকালের দিকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলিতে দুর্বলতা এবং অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম বাজারের উপর চাপ তৈরি করেছিল।
তবে দিনের মাঝামাঝি সময়ে সেই চাপ অনেকটাই কাটিয়ে ওঠে ভারতীয় বাজার। বিনিয়োগকারীদের নতুন করে শেয়ার কেনার আগ্রহের জেরে সেনসেক্স ও নিফটি দু’টিই ঊর্ধ্বমুখী হয়। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলির আগের অবস্থান ফিরে পাওয়ায় বাজারের মনোভাবেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়।
জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাসে অর্থনীতির জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত
শেয়ার বাজারের এই ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির জন্যও এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস। অর্থ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় অর্থবর্ষ ২০২৭-এর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৩৫ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।
এই পূর্বাভাস দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। জিডিপি বৃদ্ধির হার অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। উৎপাদন, পরিষেবা, বিনিয়োগ এবং ভোগব্যয়ের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রের কার্যকলাপের উপর দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি নির্ভর করে।
তবে জিডিপি বৃদ্ধির এই হার এখনও পূর্বাভাস, চূড়ান্ত পরিসংখ্যান নয়। প্রকৃত বৃদ্ধির হার কত হবে, তা পরবর্তী সরকারি তথ্য প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।
বিনিয়োগকারীদের নজরে এখন কোন বিষয়গুলি?
শুক্রবারের বাজারের উত্থান স্বস্তি দিলেও আগামী দিনে শেয়ার বাজারের গতিপথ নির্ধারণে বেশ কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতের পরিস্থিতি, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখবেন বিনিয়োগকারীরা।
পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস, সংস্থাগুলির আর্থিক ফলাফল এবং বাজারে কেনাবেচার প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, শুক্রবার সকালের দুর্বলতা কাটিয়ে ভারতীয় শেয়ার বাজারের এই প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে দিনের অন্যতম বড় ঘটনা। ৫০০ পয়েন্টেরও বেশি বেড়ে সেনসেক্সের ৭৪,৬০০-এর স্তরে ফেরা এবং নিফটির ২৩,০০০-এর গণ্ডি পেরোনো বাজারে নতুন করে আশার পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে এই উত্থান কতটা স্থায়ী হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের।