দলত্যাগীদের অন্দরের খবর নিয়ে বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ, এনসিপিআই-এর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত থাকার চাঞ্চল্যকর দাবি
রাজনীতির ময়দানে গুঞ্জনের পারদ চড়িয়ে ফের এক বিস্ফোরক দাবি করলেন মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। একদিকে যখন দলত্যাগ করা সাংসদদের পদ খারিজের মামলা গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে, ঠিক তখনই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের দল বলে পরিচিত ‘এনসিপিআই’-এর অন্দরের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে দিলেন এই বেলেঘাটার নেতা।
তাঁর দাবি, এই মুহূর্তে ওই দলেরই একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত রয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে নিজের মোবাইল স্ক্রিনে সেই গ্রুপের নাম ও চ্যাট দেখিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন কুণাল।
গত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরেই রাজনৈতিক মহলে হইচই ফেলে দিয়ে প্রায় কুড়ি জন সাংসদ তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে ‘এনসিপিআই’ বা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টি অফ ইন্ডিয়ায় যোগ দেন। ওই দলত্যাগীদের সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে শাসকশিবির। এই টানাপোড়েনের মাঝেই কুণাল ঘোষ দাবি করেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা ওই শিবিরে নাম লেখানোর ঠিক পরেই তাঁকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়।
সাংবাদিকদের সামনে মোবাইল ফোন তুলে ধরে কুণাল জানান, গ্রুপটির নাম ‘এনসিপিআই-ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনশিপ পার্টি অব ইন্ডিয়া’। এটি মূলত পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির একটি অভ্যন্তরীণ গ্রুপ। কুণাল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি ওই রাজনৈতিক দলটির পুরনো কোর টিমের গ্রুপ। ওই কুড়ি জন সাংসদ যখন দলবদলের সিদ্ধান্ত নেন, সেই সময়ই তাঁকে জোর করে বা কৌতূহলবশত ওই গ্রুপে যোগ করানো হয়।
গ্রুপে নিজের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্নও করেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, তাঁকে যুক্ত করার পরেই তিনি ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন কেন তাঁকে এই গ্রুপে রাখা হল? তাঁর দাবি, এর উত্তরে তাঁকে জানানো হয় যে তিনি একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং দলে যেহেতু অনেক সুবিধাবাদী মানুষ ঢুকেছেন, তাই তাঁর থেকে পরামর্শ নেওয়ার জন্যই তাঁকে রাখা হয়েছে। এরপর আর তিনি নিজে থেকে ওই গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে আসেননি। উল্টে কুণালের সংযোজন, গ্রুপে প্রতি মুহূর্তে কী আলোচনা চলছে, তার ওপর তাঁর সজাগ দৃষ্টি রয়েছে এবং সমস্ত কথোপকথনের স্ক্রিনশট তাঁর সংগ্রহে সংরক্ষিত আছে।
ওই গ্রুপে চলা কথাবার্তা প্রসঙ্গে আরও এক ধাপ এগিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন কুণাল। তাঁর কটাক্ষ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের ভেতরের চ্যাট দেখলে বোঝা যায় সেখানে কী ধরনের আলোচনা চলছে। অনেকে নাকি সরাসরি মেসেজ করে জানতে চাইছেন যে দলবদলের পর তাঁরা টাকার ভাগ বা অনুদান ঠিকমতো পাবেন কি না। আদালতের নজরদারি ও নতুন কমিটি গঠনের মাঝে কুণালের এই বেফাঁস মন্তব্য বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু করে দিয়েছে।