উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করল রাজ্য সরকার। মর্মান্তিক এই ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে পুজো কমিটির সদস্য-সহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত ১৭ অক্টোবর, মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বিপুল ভিড়ের মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বৃষ্টির কারণে দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। সংকীর্ণ প্রবেশ ও বেরোনোর পথ এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
তদন্তের দায়িত্বে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি
চোরবাগানের দুর্ঘটনার তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের SIT গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারী দল দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকা সম্ভাব্য গাফিলতি, ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা পরিকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখবে।
তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সূত্র: The Telegraph
শোকাহত পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আহতদের চিকিৎসার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। চিকিৎসার ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের মধ্যেও আহতদের চিকিৎসা ও সরকারি সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা এবং চিকিৎসার খরচ বহনের কথাও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
গ্রেফতার একাধিক ব্যক্তি, তদন্তে পুলিশের নজর
এই ঘটনায় পুজো কমিটির সদস্য এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা এবং দুর্ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশি তদন্তে কারও বিরুদ্ধে গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ এবং দায় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
ভবিষ্যতের পুজোয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
চোরবাগানের দুর্ঘটনা কলকাতার বড় পুজোমণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, জরুরি নির্গমনপথ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের রিপোর্টে কী উঠে আসে, সেদিকে নজর রয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পুজো উদ্যোক্তাদেরও।
এখন নজর SIT-এর তদন্ত রিপোর্টের দিকে। এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী কারণে এত মানুষের প্রাণ গেল এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়াতে কী পদক্ষেপ করা হবে, তার উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।