ইজ়রায়েলের জাতীয় নির্বাচনে কোনও দল বা জোটই পেল না নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। ফলে সরকার গঠন নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপড়েন। ছোট দলগুলির সমর্থন পেতে কি এবার জোটের অঙ্ক, দরকষাকষি এবং দলবদলের রাজনীতির পথে হাঁটতে হবে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে? ভারতীয় রাজনীতির পরিচিত ‘ঘোড়া কেনাবেচা’র ছবিই কি এবার দেখা যাবে ইজ়রায়েলে?
ইজ়রায়েলের জাতীয় নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দেশটির রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে হিসাবনিকাশ। নির্বাচনে কোনও দল বা রাজনৈতিক জোট এককভাবে সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে ভোটের লড়াই শেষ হলেও ক্ষমতা দখলের লড়াই এখনও বাকি। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে ইজ়রায়েলের সরকারের দায়িত্ব?
নির্বাচনের এই ফলাফল স্বাভাবিকভাবেই বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করাই এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। কারণ, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে এককভাবে সরকার চালানো কার্যত অসম্ভব। সে ক্ষেত্রে ছোট রাজনৈতিক দলগুলির সমর্থন কিংবা অন্য দলের সঙ্গে জোট গঠনই হতে পারে ক্ষমতায় ফেরার প্রধান রাস্তা।
সরকার গঠনের অঙ্কে ছোট দলগুলিই এখন গুরুত্বপূর্ণ
ইজ়রায়েলের নির্বাচনী রাজনীতিতে জোটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের জন্য অন্য রাজনৈতিক দলগুলির সমর্থন প্রয়োজন হয়। ফলে নির্বাচনে তুলনামূলক কম আসন পাওয়া দলগুলিও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ছোট দলগুলির সঙ্গে আলোচনা, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দরকষাকষি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কে কাকে সমর্থন করবে, কোন দল কোন শর্তে সরকারে যোগ দেবে, তা নিয়েই তৈরি হবে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।
ভারতীয় রাজনীতির ‘ঘোড়া কেনাবেচা’র ছায়া?
ভারতের রাজনীতিতে নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে দরকষাকষি নতুন কিছু নয়। অনেক সময় নির্বাচনে কোনও দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ছোট দল বা নির্দল জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করে। আবার কখনও জোটসঙ্গীদের অবস্থান বদল, রাজনৈতিক সমঝোতা কিংবা দলবদল সরকার গঠনের সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে দেয়।
ইজ়রায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও সেই ধরনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সমর্থন আদায়ের লড়াই যে আরও জোরদার হতে পারে, তা বলাই যায়। তবে ভারতীয় রাজনীতির মতো সরাসরি কোনও ‘ঘোড়া কেনাবেচা’র ঘটনা ঘটবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
নেতানিয়াহুর সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ?
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করা। বিরোধী দলগুলির অবস্থান, ছোট দলগুলির দাবি এবং সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের সঙ্গে সমঝোতার উপর নির্ভর করবে পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
সরকার গঠনের আলোচনায় শুধু ক্ষমতার ভাগাভাগিই নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিজস্ব অবস্থান ও দাবি-দাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা যত এগোবে, ততই জটিল হতে পারে ইজ়রায়েলের রাজনৈতিক সমীকরণ।
শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে ইজ়রায়েলের ক্ষমতা?

নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভোটের অঙ্ক আর সরকার গঠনের অঙ্ক সব সময় এক নয়। ভোটারদের রায় পাওয়ার পরেও ক্ষমতায় পৌঁছতে রাজনৈতিক দলগুলিকে একাধিক সমঝোতার পথে হাঁটতে হতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, নেতানিয়াহু প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে ফের সরকার গঠন করতে পারেন কি না, নাকি বিরোধী শিবিরের কোনও নতুন জোট ক্ষমতার দখল নেবে। ইজ়রায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের লড়াই তাই শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়, আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ইজ়রায়েলের রাজনীতিতে এখন নজর ভোটের সংখ্যার চেয়ে বেশি সরকার গঠনের কৌশলে। ভারতীয় রাজনীতির পরিচিত জোটের অঙ্ক ও রাজনৈতিক দরকষাকষির ছবি সেখানে দেখা যায় কি না, সেটাই এখন দেখার।