মূল ব্যালন ডি’অর নয়, বিশেষ এক অনলাইন ভোটে লিওনেল মেসিকে পিছনে ফেলে নজির গড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ফ্রান্স ফুটবলের ‘Ballon d’Or of All Time’ সম্মান জিতেছে তাঁর ২০০৮ সালের পারফরম্যান্স। এই স্বীকৃতির পর ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে রোনাল্ডোর বার্তা, ফুটবল আসলে সমর্থকদেরই।
মেসিকে পিছনে ফেলে বিশেষ স্বীকৃতি CR7-এর
ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লিওনেল মেসির প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরে মাঠের পারফরম্যান্স, ব্যক্তিগত পুরস্কার এবং রেকর্ডের নিরিখে তাঁদের তুলনা চলে আসছে। এবার সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন সংযোজন ‘Ballon d’Or of All Time’ বা সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী মরশুমের স্বীকৃতি।
২৯ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ভক্তদের অনলাইন ভোটে রোনাল্ডোর ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মরশুমকে সর্বকালের সেরা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মেসির ২০১২ সালের পারফরম্যান্স। অর্থাৎ এই বিশেষ ভোটে আর্জেন্টাইন তারকাকে পিছনে ফেলেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

কী এই ‘Ballon d’Or of All Time’?
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এই স্বীকৃতি ফ্রান্স ফুটবলের বার্ষিক মূল ব্যালন ডি’অর পুরস্কার নয়। এটি একটি বিশেষ অনলাইন ভোট, যেখানে একাধিকবার ব্যালন ডি’অর জেতা ফুটবলারদের পুরস্কারজয়ী মরশুমগুলির মধ্যে সেরা পারফরম্যান্স বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন সমর্থকেরা।
সেই ভোটে রোনাল্ডোর ২০০৮ সালের মরশুম প্রথম স্থান পেয়েছে। মেসির ২০১২ সালের ঐতিহাসিক মরশুম রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। অর্থাৎ এই ফলাফল মূলত ফুটবলপ্রেমীদের পছন্দ ও ভোটের প্রতিফলন; ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক ইতিহাসে নতুন কোনও বার্ষিক বিজয়ীর নাম যোগ হয়নি।
কেন ২০০৮ সালের মরশুম এত গুরুত্বপূর্ণ?
রোনাল্ডোর কেরিয়ারে ২০০৭-০৮ মরশুম ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময় তিনি ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছিলেন। প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাতেও বড় ভূমিকা ছিল তাঁর।
ওই মরশুমে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪২টি গোল করেছিলেন রোনাল্ডো। প্রিমিয়ার লিগে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ৩১। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে শিরোপা জিততে সাহায্য করেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবেই ২০০৮ সালে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জেতেন CR7।
রোনাল্ডোর বার্তা: ‘ফুটবল ভক্তদেরই’
এই বিশেষ স্বীকৃতি পাওয়ার পর সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন রোনাল্ডো। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, ফুটবল শুধু মাঠের খেলোয়াড়দের নয়, সমর্থকদেরও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “Football belongs to the fans.” অর্থাৎ, ফুটবল ভক্তদেরই।
এর পাশাপাশি তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সমর্থকদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তাঁর কাছে এই পুরস্কার শুধু ব্যক্তিগত সম্মান নয়, সমর্থকদেরও প্রাপ্তি। রোনাল্ডোর এই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে নতুন করে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে।
এই ভোটে রোনাল্ডো মেসিকে পিছনে ফেললেও আনুষ্ঠানিক ব্যালন ডি’অর জয়ের সংখ্যায় এখনও অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা। মেসি মোট আটবার পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। অন্যদিকে রোনাল্ডোর ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর—২০০৮, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে।
২০২৬ সালের মূল ব্যালন ডি’অরও রোনাল্ডোর হাতে ওঠেনি। ২৬ অক্টোবর লন্ডনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরুষদের সেরা ফুটবলার হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার হ্যারি কেন। কিলিয়ান এমবাপেকে পিছনে ফেলে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। মেসি সেই তালিকায় পঞ্চম স্থানে ছিলেন।

মাঠের লড়াইয়ের বাইরে রোনাল্ডো-মেসি বিতর্ক
রোনাল্ডো ও মেসির তুলনা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে চিরন্তন আলোচনার বিষয়। দু’জনের খেলার ধরন, সাফল্য এবং ব্যক্তিগত রেকর্ড আলাদা হলেও বিশ্ব ফুটবলে তাঁদের প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই।
‘Ballon d’Or of All Time’ ভোটে রোনাল্ডোর ২০০৮ সালের মরশুম প্রথম স্থান পাওয়ায় সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হল। তবে এই ফলাফলকে আনুষ্ঠানিক ব্যালন ডি’অর জয়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। এটি সমর্থকদের ভোটে পাওয়া বিশেষ স্বীকৃতি। আর সেই স্বীকৃতি গ্রহণ করে রোনাল্ডোর বার্তাও স্পষ্ট—সমর্থকদের ভালোবাসাই তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি।