ভারতীয় সেনার নতুন ল্যান্ড ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন ২০২৬ প্রকাশ করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে আর্মি কমান্ডার্স কনফারেন্সে এটি প্রকাশ করা হয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম ডকট্রিন সংশোধিত হল, অর্থাৎ আট বছরেরও বেশি সময় পরে। ২০২৫ সালের মে মাসে অপারেশন সিঁদুরের পর এটিই প্রথম সংশোধন।
এই ডকট্রিনে স্থির হয় যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় সেনা কোন মূল নীতি মেনে প্রস্তুতি নেবে ও অভিযান চালাবে। সামরিক পরিকল্পনা, বাহিনী গঠন, প্রশিক্ষণ এবং নতুন প্রযুক্তির সংযোজনের কাঠামোও এতে নির্ধারিত হয়।গত কয়েক বছরে যুদ্ধের চরিত্র অনেক বদলেছে। ড্রোন, নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্র, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও সাইবার সক্ষমতা এখন সামরিক অভিযানে ক্রমশ বড় ভূমিকা নিচ্ছে। নতুন ডকট্রিনকে সেই প্রেক্ষাপটেই দেখা হচ্ছে।
শীর্ষ সেনা কমান্ডারদের উদ্দেশে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন:
আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি দরকার। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ও উদীয়মান হুমকির মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।
অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যের পিছনে ছিল উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, তিন বাহিনীর মধ্যে উন্নত সমন্বয় এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র।
যুদ্ধ এখন আকাশ, সমুদ্র, মহাকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ছে। তবু স্থলবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, ডেটা অ্যানালিটিক্স, সাইবার নিরাপত্তা ও সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করতে হবে। সেনার পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা, বিশেষ করে ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কথাও তিনি তুলে ধরেন। সংস্কারের ফলে বাস্তবে অভিযানগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে বলেও কমান্ডারদের নির্দেশ দেন।
দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের অগ্রগতি নিয়েও তথ্য দেন রাজনাথ সিং। তাঁর দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা উৎপাদন ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রতিরক্ষা রফতানি প্রায় ৩৮,০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
এই সম্মেলনে সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব একসঙ্গে বসে অভিযানগত প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন, উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মূল্যায়ন করেন এবং আধুনিকীকরণ ও সাংগঠনিক সংস্কারের অগ্রাধিকার স্থির করেন। এবারের সম্মেলনে রাষ্ট্রসংঘের বার্ষিক জার্নালও প্রকাশিত হয়। রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অবদানের জন্য ভারতীয় সেনা কর্মীদের সম্মানও জানানো হয়।
ডকট্রিনের বিস্তারিত অংশ অপ্রকাশিত নতুন ডকট্রিন ভবিষ্যতে সেনার প্রস্তুতির সামগ্রিক কাঠামো ঠিক করবে। তবে এর বিস্তারিত অভিযানগত ধারাগুলি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।