আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার সকালের এই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জয়শঙ্কর আজারবাইজানে সরকারি সফরে রয়েছেন।
এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে জয়শঙ্কর জানান, তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা প্রেসিডেন্ট আলিয়েভের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। এই উদ্যোগ নিয়ে আলিয়েভের ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসাও করেন তিনি।
আজারবাইজানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা
দিনের শুরুতে আজারবাইজানের বিদেশমন্ত্রী জেইহুন বায়রামভের সঙ্গেও বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। আজারবাইজানের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, আলোচনার বিষয় ছিল রাজনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, পরিবহণ, পর্যটন, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা। এ ছাড়া আজারবাইজানের পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডর, বাকু-টিবিলিসি-কার্স রেলপথ, বাকু বন্দর এবং আলাত মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছিল প্রায় ১৪৩ কোটি ডলার। ভারত তখন আজারবাইজানের সপ্তম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। ভারত আজারবাইজান থেকে মূলত অশোধিত তেল আমদানি করে। জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করতে চাওয়া ভারতের কাছে তেল-গ্যাস সমৃদ্ধ আজারবাইজান তাই গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর-দক্ষিণ আন্তর্জাতিক পরিবহণ করিডর (INSTC) ভারতের জন্য যোগাযোগের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।
১৬ অক্টোবর আজারবাইজানে ভারতের রাষ্ট্রদূত অভয় কুমার প্রেসিডেন্ট আলিয়েভের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। গত সপ্তাহে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং এশিয়ায় সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধি সম্মেলনের (CICA) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আজারবাইজানে যান। ১ সেপ্টেম্বর বিশকেকে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদী ও আলিয়েভের বৈঠক হয়। এপ্রিলে বাকুতে ষষ্ঠ ভারত-আজারবাইজান ফরেন অফিস কনসালটেশন হয়। সে বৈঠকে ভারতের পক্ষে ছিলেন বিদেশ সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জ। কয়েক বছর পর সেটিই ছিল দুই দেশের প্রথম উচ্চপর্যায়ের সংলাপ।
গত কয়েক বছরে আজারবাইজান ও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা এবং আর্মেনিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে নয়াদিল্লি-বাকু সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই একের পর এক বৈঠককে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক মহল।